মুশফিকের শততম টেস্টে ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষা: মিরপুরে উৎসবমুখর আবহে প্রথম দিন শেষ বাংলাদেশের
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় দিন যোগ হলো আজ। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়াম আজ যেন সাজানো হয়েছিল পুরোপুরি মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টকে ঘিরে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের উপস্থিতি, মাঠে ব্যানার, স্মারক ক্যাপ প্রদান অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ ছিল পুরো শেরেবাংলায়।
মুশফিক যে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার—এদিনের আবহ সেই কথাই যেন আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল। তাঁর শততম টেস্টে ব্যাটিং করতে যাওয়ার মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করতে গোটা গ্যালারি প্রস্তুত ছিল। বাংলাদেশ দল যখন ১ উইকেট হারিয়ে চাপে, নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়ে ফিরতেই ড্রেসিং রুম থেকে বের হলেন মুশফিক। মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়।

🔥 মুশফিকের শততম টেস্টে ৯৯! সেঞ্চুরির সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিক: দরকার ছিল মাত্র ১ রান
সারা দিনের নানান আবেগময় আয়োজন আরও রঙিন হওয়ার অপেক্ষায় ছিল মাত্র ১ রান। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেট ইতিহাসেও বিরল ঘটনা। মুশফিক সেই কীর্তি অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে।
বিশেষ মুহূর্তটি পেতে গ্যালারির দর্শকদের উন্মাদনাও ছিল তুঙ্গে। শেষ ওভারে যখন আয়ারল্যান্ডের স্পিনার গ্যাবিন হোই বল করতে এলো, পুরো গ্যালারি তখন একটাই শব্দে মুখর—
“সিঙ্গেল… সিঙ্গেল…”,
যাতে মুশফিক স্ট্রাইকে ফিরে আসতে পারেন এবং শতক তুলে নিতে পারেন।
তৃতীয় বলে মুশফিক রান নিলেন, এরপর স্ট্রাইকে আসেন লিটন দাস। গ্যালারি চিৎকার করে উঠলো—“সিঙ্গেল দাও!”
লিটন তাই করলেন, কিন্তু পরের বলে মুশফিক আর এক রানের বেশি নিতে পারেননি।
এবং ঠিক তখন থেকেই শুরু হলো আয়ারল্যান্ডের অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা। প্রায় দু’মিনিট ধরে ফিল্ড সাজানো, বিলম্ব করা—এমন আচরণে ম্যাচের গতি একবারে ধীর হয়ে যায়।
সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের নিউজ পোর্টাল।
❗ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও আইরিশদের সময়ক্ষেপণের অভিযোগ
দিনশেষ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মুমিনুল হক জানান—
“শেষদিকে আমরা অতিরিক্ত এক ওভার খেলতে চেয়েছিলাম। দুই ব্যাটসম্যানেরই মাইলফলক ছিল। ওরা (আয়ারল্যান্ড) খুব স্লো ছিল।”
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিনিধি স্পিন বোলিং কোচ ক্রিস ব্রাউনের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি—
“আমরা ইচ্ছাকৃত সময় নষ্ট করিনি। ভিন্ন ফিল্ড সেটআপ সাজানোর চিন্তা করছিলাম।”
তবে পরিস্থিতি দেখে সহজেই বোঝা যাচ্ছিল, আইরিশরা চাইছিল না স্ট্রাইকে যাওয়া–আসার সুযোগ নিয়ে মুশফিক সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান।
অবশেষে নাটকীয়তা রেখে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করতে হলো মুশফিককে।

🧠 মুশফিককে নিয়ে দলে কোনো দুশ্চিন্তা নেই
মুমিনুলের ভাষায়—
“মুশফিক ভাইয়ের সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি করার অভ্যাস আছে। ৯০-এর ঘরে গিয়ে উনার কোনো প্যানিক নেই। অন্য কেউ হলে হয়তো প্যানিক থাকতাম।”
এতেই স্পষ্ট, শততম টেস্টে সেঞ্চুরির অপেক্ষা থাকলেও বাংলাদেশ দল পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ছিল মুশফিকের স্থিতিশীলতা নিয়ে।
🎉 শততম টেস্টে উৎসব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
মুশফিকের শততম টেস্ট ঘিরে যেসব আয়োজন হয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটে খুব কম দেখা গেছে।
দর্শকের বিশেষ ডিজাইনের জার্সি
মাঠে বড় ব্যানার
স্মারক ক্যাপ প্রদান
বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা
সব মিলিয়ে এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল।
মুমিনুল মজা করে বলেন—
“এমন পরিবেশ তো আগে কখনো দেখিনি। এমনকি অবসরের সময়ও না!”
তাঁর বিশ্বাস—এমন আয়োজন তরুণ ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট করবে।
“এই ধরনের সংস্কৃতি থাকলে নতুন প্রজন্ম ১০০ টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখবে।”
📌 বাংলাদেশের ইনিংসের সারসংক্ষেপ
প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশ:
🔹 ৪ উইকেটে ২৯২ রান
মুশফিক ৯৯*
লিটন দাস ৪৬
দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে শততম টেস্টকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলতে মুশফিকের সেঞ্চুরি দেখা।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট: ইতিহাস, আবেগ ও প্রতীক্ষার এক দিন
বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে আজ এক বিশেষ মুহূর্ত। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকুর রহিম খেলেছেন তার শততম টেস্ট, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক গৌরবময় মাইলফলক। এখন টিভি+2Prothom Alo+2
🔹 অতীত থেকে বর্তমান — মাইলফলকের প্রেক্ষাপট
মুশফিকুর রহিম ২০০৫ সালে লর্ডসে তার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। Risingbd Online Bangla News Portal+1 আজ, প্রায় ২০ বছর পর, তিনি সেই যাত্রার একসঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০টি টেস্টে পৌঁছেন। Bangla Tribune+1
এই কীর্তি শুধুমাত্র তার নিজস্ব গৌরব নয়, পুরো দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর মুহূর্ত।
🎉 বিশেষ আয়োজন ও গ্যালারি উৎসব
মিরপুর স্টেডিয়ামে শততম টেস্ট উপলক্ষে ছিল অন্যরকম উৎসব। বিসিবি এবং স্থানীয় সংগঠকরা আয়োজন করেছেন স্মারক ক্যাপ, বিশাল ব্যানার এবং বিশেষ ব্যালকনিতে দর্শকদের জন্য জায়গা। Bangla BDNews24+1 গ্যালারি ছিল উদ্দীপ্ত; ক্রিকেট-প্রেমীরা তাদের ফোন ক্যামেরায় ধরতে চেয়েছিলেন মুশফিকের যতটুকু সম্ভব মুহূর্ত। The Daily Star সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটাররা মুশফিককে বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এখন টিভি+1
📊 প্রথম দিনের পারফরম্যান্স ও স্কোরবুক
মুশফিকের শততম টেস্টে প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২৯২/৪। The Daily Star+1 মুশফিক ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং লিটন দাস সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়েছিলেন (প্রায় ৯০ রান)। The Daily Star তার ব্যাটিং ছিল অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার মিশেল — একরকম মানসিক স্থিরতা, যা একটি বড় মাইলফলকের সামনে থাকা ব্যাটসম্যানকে প্রয়োজন হয়।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে এক মাত্র সফল বোলার ছিলেন স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, যিনি প্রথম দিনের চার উইকেট নিয়েছিলেন। The Daily Star
⏳ মুশফিকের শততম টেস্ট সেঞ্চুরী হতে ১ রান দুরে সময়ক্ষেপণ ও নাটকীয়তা
শেষ ওভারে যখন মাইলফলক খুব কাছাকাছি ছিল, তখন গ্যালারি চিৎকার করেছিল “সিঙ্গেল… সিঙ্গেল…”, “মুশফিক… মুশফিক…”। কিন্তু মুশফিক একের বেশি রান নিতে পারেননি। ঘটনাচক্রে, আয়ারল্যান্ড দলে সময়নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। The Daily Star মুমিনুল হক (বাংলাদেশ প্রতিনিধি) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা অতিরিক্ত এক ওভার চেয়েছিল যেটা হয়নি। The Daily Star তবে আয়ারল্যান্ড স্পিন কোচ ক্রিস ব্রাউন দাবি করেছেন তারা ইচ্ছাকৃত সময় অপচয় করেনি — বরং নতুন ফিল্ড সেটআপ পরিকল্পনা করছিল। The Daily Star
💬 সাবেকদের শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
এই মাইলফলক উপলক্ষে সাবেক ক্রিকেটাররা মুশফিককে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। এখন টিভি তাদের মতে, মুশফিক ছিল এবং আছে এক দীর্ঘস্থায়ী, শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার, যিনি তার ধারাবাহিকতা এবং মানসিক শক্তি দিয়ে অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
মুমিনুল হক এক কথায় বলছেন —
“এই পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি … তরুণদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ জাগাতে এই মুহূর্তটি খুব বিশেষ।” Bangla Tribune
তাঁর কথায়, যদি এমন সংস্কৃতি সবসময় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের প্রজন্মও টেস্ট খেলতে উৎসাহী হবে এবং শততম টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখবে।
🔍 মুশফিকের শততম টেস্ট ও ক্যারিয়ার হাইলাইটস
প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলা। এখন টিভি+1
বাংলাদেশে তাঁর অভিষেক হয়েছিল লর্ডসে, যেখানে তিনি প্রায় ১৮ বছর বয়সে খেলেছিলেন। Risingbd Online Bangla News Portal
উইকেটরক্ষক এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে একটি বহুমুখী ভূমিকা পালন করেছেন তার পুরো ক্যারিয়ারে। Wikipedia
📌 উপসংহার
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট শুধু একটি সংখ্যার খবর নয় — এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে স্থায়িত্ব, অভিজ্ঞতা এবং মাইলফলকের প্রতীক। মিরপুরে গড়া উৎসব, দর্শকের উন্মাদনা এবং তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স মিলিয়ে পুরো দিন ছিল স্মরণীয়।
যদিও শতকটা মিস করলেন এক রানে, কিন্তু এই ম্যাচ তার ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তরুণ ক্রিকেটাররা আজ দেখল যে, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও প্রাগাঢ় ভালোবাসা কিভাবে একটি অসম্ভব স্বপ্নকে প্রায় বাস্তবে রূপ দিতে পারে।



