জমির দলিলে ভুল হলে কী করবেন? | ডিজিটাল ভূমিসেবা ও নিষিদ্ধ জমি বিক্রি আইন
জমি রেজিস্ট্রি করার সময় সামান্য একটি ভুল ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন—একবার দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে তা আর সংশোধন করা যায় না। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমির দলিল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল ভূমিসেবা, সংশোধন মামলা ও নিষিদ্ধ জমি বিক্রির পূর্ণ গাইড
জমির দলিলে ভুল হলে কীভাবে সংশোধন করবেন? কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে? ডিজিটাল ভূমিসেবায় কোন ৬ ধরনের জমি বিক্রি নিষিদ্ধ—এসব বিষয় নিয়েই আজকের এই পূর্ণাঙ্গ গাইড।
এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো—
- দলিলে ভুল হলে কীভাবে সংশোধন করবেন
- কত বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে
- নির্ভুল দলিল তৈরির ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
- ডিজিটাল ভূমিসেবায় নিষিদ্ধ ৬ শ্রেণির জমি
- আইন লঙ্ঘনের শাস্তি কী

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: তারেক রহমানের সিলেট জনসভা, ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশে সরগরম জাতীয় রাজনীতি
বিস্তারিত পড়ুন »

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা জোরালো, মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে
বিস্তারিত পড়ুন »

জাতীয় সংসদ নির্বাচন : বৈধ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ, কাল থেকে প্রচারণা
বিস্তারিত পড়ুন »

রাতের ভোট বিতর্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিস্তারিত পড়ুন »

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: তারেক রহমানের সিলেট জনসভা, ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশে সরগরম জাতীয় রাজনীতি
বিস্তারিত পড়ুন »
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা জোরালো, মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে
বিস্তারিত পড়ুন »
জাতীয় সংসদ নির্বাচন : বৈধ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ, কাল থেকে প্রচারণা
বিস্তারিত পড়ুন »
রাতের ভোট বিতর্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিস্তারিত পড়ুন »জমির দলিলে ভুল হলে কীভাবে সংশোধন করবেন?
জমির দলিলে রেজিস্ট্রির পর যদি দাগ নম্বর, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি কিংবা নামের বানানে কোনো ভুল ধরা পড়ে—তাহলে সেটি সংশোধন করা সম্ভব।
সময়সীমা
- দলিল রেজিস্ট্রির ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে দলিল সংশোধন মামলা করা যায়
- ৩ বছর পেরিয়ে গেলে মামলা তামাদি হয়ে যায়
- তবে তখন ঘোষণামূলক মামলা করা যায়
আদালতের রায়ের কপির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দলিলের ভলিউম সংশোধন করে নেয়। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ৩১ ধারা অনুযায়ী নতুন করে দলিল করার প্রয়োজন হয় না।
ভূমি মন্ত্রণালয়
নির্ভুল জমির দলিল তৈরির ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
১. জমিদাতা আইনি সক্ষম কিনা যাচাই
বিক্রেতা সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কিনা নিশ্চিত করুন।
২. পুরোনো ও নতুন দলিল মিলিয়ে দেখুন
শিরোনাম, সাফকবলা, বায়নাপত্রসহ সব অংশ ভালোভাবে যাচাই করুন।
৩. পক্ষ পরিচয় সঠিকভাবে লিখুন
ক্রেতা ও বিক্রেতার পূর্ণ নাম, ঠিকানা, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ থাকতে হবে।
৪. উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা হলে সম্পর্ক যাচাই
মূল মালিকের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৫. জমির তফশিল নির্ভুল করুন
জেলা, উপজেলা, মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান ও জমির শ্রেণি সঠিকভাবে লিখুন।
৬. চৌহদ্দি সঠিকভাবে উল্লেখ করুন
চারদিকের জমির বর্ণনা ও মালিকের নাম উল্লেখ থাকতে হবে।
৭. স্বাক্ষর ও টিপসহি নিশ্চিত করুন
দলিলের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় বিক্রেতার স্বাক্ষর বা টিপসহি থাকতে হবে।
৮. সাক্ষী ও শনাক্তকারীর স্বাক্ষর
কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী ও একজন শনাক্তকারীর স্বাক্ষর আবশ্যক।
৯. কাটাকাটি এড়িয়ে চলুন
ভুল হলে শেষ অংশে কৈফিয়ত লিখে দলিললেখকের স্বাক্ষর নিতে হবে।
১০. দাগ অনুযায়ী জমির পরিমাণ লিখুন
প্রত্যেক দাগে মোট জমি ও বিক্রয়যোগ্য অংশ উল্লেখ করতে হবে।
১১. তহশিল অফিস থেকে তথ্য যাচাই
ডিজিটাল ভূমিসেবা প্ল্যাটফর্ম থেকে দাগ ও খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে নিন।
ডিজিটাল ভূমিসেবা ও নিষিদ্ধ ৬ শ্রেণির জমি
ডিজিটাল ভূমিসেবার ফলে জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। এ কারণে ৬ শ্রেণির জমি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ জমির তালিকা
- জাল রেকর্ডভিত্তিক মালিকানা
- ভুয়া নামজারিভিত্তিক মালিকানা
- ভুয়া দাখিলাভিত্তিক জমি
- এজমালি সম্পত্তি (সব ওয়ারিশ একমত না হলে)
- সরকারি খাসজমি (৯৯ বছরের লিজপ্রাপ্ত)
- জবরদখলকৃত জমি
এই ধরনের জমি বিক্রির চেষ্টা করলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সতর্কতা ও উপসংহার
ডিজিটাল ভূমিসেবা যেমন স্বচ্ছতা এনেছে, তেমনি অসতর্ক হলে প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই জমি কেনার আগে অবশ্যই—
- মালিকানা যাচাই
- দলিল ও রেকর্ড মিল
- তালিকাভুক্ত দলিললেখক নির্বাচন
- আইনগত পরামর্শ গ্রহণ
এসব বিষয় নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।



