জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রততীক বরাদ্দ সম্পন্ন, শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। এর ফলে আগামীকাল থেকে প্রার্থীরা মাঠে নেমে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তি শেষে যেসব প্রার্থী বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন, তাদের সবাইকে নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ইসির নির্ধারিত প্রতীক পেয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আগের বিশ্লেষণও দেখতে পারেন।
প্রচারণা শুরু হলেও মানতে হবে কঠোর শর্ত
ইসি জানিয়েছে, প্রচারণা শুরু হলেও প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় যেসব বিষয় মানতে হবে—
🔹 সরকারি বা আধা-সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করা যাবে না
🔹 সরকারি যানবাহন, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ
🔹 পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড নির্ধারিত আকারের বাইরে ব্যবহার করা যাবে না
🔹 ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনের আশপাশে প্রচারণা নিষিদ্ধ
🔹 কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক বা বিদ্বেষমূলক প্রচার করা যাবে না
নির্বাচনী ব্যয় সীমার মধ্যেই থাকতে হবে
নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, প্রার্থীদের প্রচারণা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে। প্রতিটি প্রার্থীকে ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে এবং নির্বাচন শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, অতিরিক্ত ব্যয় বা গোপন ব্যয়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে প্রশাসন
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম কাজ করবে।
এদিকে প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণা নিয়ে উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক এলাকায় পোস্টার, লিফলেট প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে, তবে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা শুরু না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নিয়ম মেনে প্রচারণা চালালে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কার্যক্রমে গতি এসেছে। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এটি নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ায় প্রার্থীরা এখন ভোটারদের সামনে নিজেদের পরিচয় ও কর্মসূচি তুলে ধরতে পারবেন।
বৈধ প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরুর সময়টাই সবচেয়ে সংবেদনশীল। এ সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে প্রচারণা চালানো প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশণ যা বলেছেন
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি থাকবে। পোস্টার, ব্যানার, মাইকিংসহ সব ধরনের প্রচারণা নির্ধারিত সীমার মধ্যে করতে হবে। কোনো প্রার্থী অতিরিক্ত ব্যয় করলে বা গোপন ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রচারণা নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নিয়ম মেনে প্রচারণা চালালে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।



