সংবাদ প্রতিবেদন (রাজনৈতিক ডেস্ক)
রাতের ভোট বিতর্কে নতুন চাঞ্চল্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে আলোচিত রাতের ভোট ইস্যুর নেপথ্য কাহিনি। নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ ও সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছিল, পুলিশের অভ্যন্তরীণ এক দীর্ঘমেয়াদি তদন্তে এবার তারই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কীভাবে পরিকল্পিতভাবে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল, কারা ছিলেন এর মূল কারিগর এবং কোথা থেকে এসেছিল বিপুল অর্থের জোগান—সবকিছুই উঠে এসেছে ওই অনুসন্ধানে।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসা বিস্ফোরক তথ্য
প্রায় ছয় মাস ধরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত তদন্তে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচিত রাতের ভোট কার্যক্রম বাস্তবায়নে মোট প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করতে।
সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন।
নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থের ভূমিকা
তদন্তে বলা হয়েছে, এই অর্থ পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হয় অত্যন্ত সুসংগঠিত ও নিখুঁত একটি চেইন। বাকি অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখানোর পর উদ্বৃত্ত অংশ আত্মসাৎ করেন ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও ঘনিষ্ঠ মহল। এসব তথ্য নতুন করে নির্বাচন বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।
গণভবনের বৈঠক ও পরিকল্পনার অভিযোগ
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের অন্তত তিন মাস আগেই রাতের ভোট কার্যক্রম বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত আসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এ সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গণভবনে।
অর্থ সংগ্রহে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা
তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ রেহানা, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকিসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করেন, যা বাংলাদেশ রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়। কোথাও কোথাও ভোটারের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি ভোট কেটে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে ব্যালট পুড়িয়ে নতুন করে হিসাব মিলিয়ে ব্যালট বাক্স পূরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
রাতের ভোট বিতর্ক ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য সত্য হলে তা শুধু একটি নির্বাচনের বৈধতাই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর গুরুতর আঘাত হানে। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই তথ্য প্রকাশ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জোরালো করছে।
উপসংহার
সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি ছাড়া ভবিষ্যতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। ফলে রাতের ভোট বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে।



