২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
Breaking::

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতার বৈঠক কাল

index

ভারত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। আজ শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সরকারি সফরে আজ দুপুরে দিল্লির পালামের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে শেখ হাসিনাকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবর্ধনা আয়োজন করে। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দিল্লিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, গণ্যমান্য ভারতীয় ব্যক্তি ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে আসছেন বলে শুনেছি। তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। দেখি আগামীকাল রাতে হয় কিনা?

গঙ্গা ব্যারাজ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা করতে চাই। দুই বাংলার জনগণের স্বার্থে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই করতে চাই।’ তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদী। দেখি কী হয়।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ঘটনায় তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, এত বড় দেশের প্রধানমন্ত্রী, এত ব্যস্ততা তাঁর। তারপরেও তিনি গেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দু দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে।

উল্লেখ্য, প্রটোকল অনুসারে ভারতের ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাঙালি গায়ক বাবুল সুপ্রিয়র শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল। বাবুল সুপ্রিয় বিমানবন্দরে উপস্থিতও ছিলেন। তবে পরে প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি নিজেই। স্থানীয় সময় বেলা একটার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক টুইটে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিল্লি সফরের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর অন্যতম হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা। ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল তাদের প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ দেওয়ার কথা বলছে বারবার। এবার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম-বেশি ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে ৫০০ কোটি ডলার দিতে যাচ্ছে ভারত। এর মধ্যে নতুন মাত্রা হচ্ছে ভারতের কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলারের ঋণে সমরাস্ত্র কেনাকাটা। এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শহীদদের মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া। একাত্তরে আত্মোৎসর্গীকৃত এসব বীরের পরিবারের সাত সদস্যকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানে সম্মান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কাল শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষ বৈঠকে বসছেন। শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দেওয়া নৈশভোজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেবেন। তবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি সই নিয়ে এখনই নতুন আশা তৈরির সুযোগ নেই। তিস্তা চুক্তি সইয়ের জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ সকাল ১০টার একটু পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আকাশ প্রদীপ উড়োজাহাজে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।