২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
Breaking::

Monthly Archives: April 2017

ছাত্রশিবির সেক্রেটারি মোবারক হোসাইনের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ

22

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. মোবারক হোসাইন পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ভারতের রাজস্থানের শ্রী জে জে টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত ২০ শে এপ্রিল তার পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদন করে। তাঁর গবেষণা অভিসন্দর্ভের শিরোনাম: “ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের কৌশল: ইসলামী ও প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে তুলনামূলক সমীক্ষা (Leadership Process in Management: A Comparative Study Between Islamic and Conventional Perspective)”

মোবারক হোসেন কুমিল্লা জেলার ব্রাক্ষনপাড়া উপজেলার বালিনা গ্রামে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি মো. মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ ও খোদেজা বেগমের চতুর্থ পুত্র। তিনি ব্রাক্ষণপাড়ার বালিনা মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং মুরাদনগর অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সঙ্গে শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষনামূলক জার্নালে তার ৫টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহন এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে এই অনন্য অর্জনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতসহ সেক্রেটারীয়েট সদস্য বৃন্দ। শিবির সভাপতি বলেন, সিমাহীন ব্যস্ততা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিবির সেক্রেটারীর এই অর্জন ছাত্রসমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। ছাত্রশিবির জাতিকে যোগ্য নাগরিক উপহার দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেক্রেটারি জেনারেলের এই ডিগ্রি অর্জন তার একটি নজির। আমরা তার সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করছি।

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী মানব বন্ধন

kulna

নতুন আলো ডটকম: প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরুপএ চুক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা হাতে হাত মিলিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে এ চুক্তির বিরোধীতা করে। মানব বন্ধন থেকে বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস গৌরবের ও মর্যাদার। আমাদের সামরিক বাহিনীর সাহসিকতা ও যোগ্যতা সারা বিশ্বময় স্বীকৃত। কিন্তু এ চুক্তি স্বাধীন দেশ ও গৌরবোজ্জ্বল সামরিক বাহিনীর জন্য অবমাননাকর বলে আমরা মনে করি। আমরা প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ককে স্বাগত জানাই। কিন্তু রক্তে কেনা এ স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দিয়ে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা জাতি মেনে নিবে না। আমরা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে পরাধীন কোন রাষ্ট্রর নাগরিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। বক্তাগণ অবিলম্বে এ দেশ ও জাতিয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি থেকে সরকারকে বিরত থাকতে আহবান জানান।

চট্টগ্রাম :
দেশবিরোধী এ চুক্তির বিরুদ্ধে চট্রগ্রামে এক বিশাল মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে উপস্থিত ছাত্র-জনতা “দেশবিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি, মানিনা মানব না” স্লোগান দিতে থাকে।

রাজশাহী :
রাজশাহীতে আধিপত্যবাদ বিরোধী ছাত্রজোটের উদ্যোগে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে আপামর ছাত্রজনতা। নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সকাল ১১ টার দিকে এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র-জনতা উপস্থিত থেকে সরকারের এ চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
রংপুর :
রংপুরে সতেচন ছাত্রসমাজের ব্যানারে আজ আত্মঘাতী প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে আপামর ছাত্রসমাজ মানববন্ধন করে। এসময় তারা “দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ” স্লোগানে মুখরিত করে তোলে।
খুলনা :
খুলনায়ও স্বাধীনতা ও সার্বভোমত্ব বিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন করে দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ। এসময় তারা সরকার ও তাদের দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
বরিশাল :
বরিশালেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকারক এ চুক্তির বিরুদ্ধে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “প্রতিরক্ষা চুক্তির নামে দেশবিরোধী চুক্তি রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ ” স্লোগানে দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ এ ব্যানারে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ৩টার দিকে অমৃতলাল কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ctgrajshahi

rangpurBarishal

আমি অভিভূত, বললেন প্রধানমন্ত্রী

pic-bg20170407204943

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চলে আসায় অভিভূত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে ওই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর। এতে অংশ নেন নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনেরা।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট নয়াদিল্লিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পালাম স্টেশনে অবতরণ করে।

ফ্লাইট থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ভারতের ভারী শিল্প ও গণপরিবহন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে তার আগে বড় চমক দেন নরেন্দ্র মোদি। প্রটোকল ভেঙে সৌহার্দ্যের নজির দেখিয়ে বিমানবন্দরে এসে শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এ বিরল অভ্যর্থনায় মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রটোকল ভেঙে নরেন্দ্র মোদি বিমানবন্দরে রিসিভ করেছেন বলে আমি অভিভূত।

তিনি এসময় বলেন, আমরা গঙ্গা ব্যারেজ (বাঁধ) করতে চাই। সেজন্য ভারতের সহযোগিতা চাই। এতে দু’দেশই লাভবান হবে।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী, এ নিয়ে আমি আশাবাদী। মমতা এসেছেন। তার সঙ্গে কথা হবে।

 

রামেক’এ ছাত্রলীগের হামলা ও মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ শিবিরের

শিবির-622x350

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিবির কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, ৪ শিবির কর্মী গ্রেপ্তার ও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে যুগান্তরের বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিবির।

এক প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, গতকাল রামেক’ এ গভীর রাতে শিবির নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে বহিরাগত ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা ও কক্ষ ভাংচুর চালালেও পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে অন্যায় ভাবে নিরপরাধ ৪ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৈনিক যুগান্তর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রশিবির কর্মীরা ফাকা গুলি ছুড়েছে, হামলা করেছে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ঘৃন্য মিথ্যাচার। মূল ঘটনা হলো র্যাগ ডে কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ চাঁদাবাজী করতে গেলে সাধারণ ছাত্রদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে রামেক ইন্টার্নি হলে হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাট করে। এতে তিন ছাত্র আহত হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে নিরব ভূমিকা পালন করে। পরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা অনুযায়ী উল্টো হলে তল্লাসীর নামে ৪ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার ও জিহাদী বই এবং অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায় পুলিশ। আর যুগান্তর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম আড়াল করতে ছাত্রশিবিরের নামে মিথ্যাচার ও সাজানো নাটক প্রচার করে। একটি শান্ত ক্যাম্পাসকে পরিকল্পিত ভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, পুলিশের দায়িত্বহীন ভূমিকা ও যুগান্তরের মিথ্যাচার সমান ভাবে দায়ী বলে ছাত্রসমাজ মনে করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যত বারই ছাত্রলীগ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তান্ডব চালিয়েছে দু:খজনক ভাবে তত বারই পুলিশ ও কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসীদের সহযোগির ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মদদ যুগিয়েছে। যা ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। ফলে ক্যাম্পাসগুলো আজ ভীতির রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই, সাধারণ ছাত্রদের উপর অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা, গ্রেপ্তার ও অপপ্রচার মেনে নেয়া হবেনা। অবিলম্বে চিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত নিরপরাধ শিবির নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। একই সাথে সাংবাদিকতার লেবাসে দলীয় মিথ্যাচার বন্ধ করার আহবান জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও পুলিশি হয়রানী বন্ধ এবং মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

বিজ্ঞপ্তি

প্রতিরক্ষা চুক্তি জনগণ মানবে না : ফখরুল

image-17010-1484815925

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মতো অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান না করে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক জনগণ মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার পরও কেন প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা করতে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব।

আজ শুক্রবার সকালে সদ্য কারামুক্ত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে শেরে বাংলানগর এলাকায় জড়ো হন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সমস্যাগুলো তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তিস্তা নদীর পানি সমস্যার সমাধান করা। অর্থাৎ ন্যায্য হিস্যা পাওয়া, ৫৮টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা পাওয়া। আমাদের সীমান্তে যে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে তা নিরসন হওয়া এবং ট্যারিফ-নন ট্যারিফ বিষয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাধা রয়েছে সেই বাধা অপসারণ করা। এগুলোই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সব থেকে বড় সমস্যা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো যদি সমাধান না হয়, তাহলে শুধুমাত্র ভারতের সঙ্গে কোনো রকম প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকার যেটা বলছেন যে, ভারতের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চতম পর্যায়ে যদি থাকে তাহলে এই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা স্মারক সই করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো সমঝোতা বা চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেশী ভারতসহ গণতান্ত্রিক বিশ্ব ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন বিএনপি মহাসচিব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতার বৈঠক কাল

index

ভারত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। আজ শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সরকারি সফরে আজ দুপুরে দিল্লির পালামের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে শেখ হাসিনাকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবর্ধনা আয়োজন করে। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দিল্লিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, গণ্যমান্য ভারতীয় ব্যক্তি ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে আসছেন বলে শুনেছি। তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। দেখি আগামীকাল রাতে হয় কিনা?

গঙ্গা ব্যারাজ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা করতে চাই। দুই বাংলার জনগণের স্বার্থে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই করতে চাই।’ তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদী। দেখি কী হয়।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ঘটনায় তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, এত বড় দেশের প্রধানমন্ত্রী, এত ব্যস্ততা তাঁর। তারপরেও তিনি গেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দু দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে।

উল্লেখ্য, প্রটোকল অনুসারে ভারতের ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাঙালি গায়ক বাবুল সুপ্রিয়র শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল। বাবুল সুপ্রিয় বিমানবন্দরে উপস্থিতও ছিলেন। তবে পরে প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি নিজেই। স্থানীয় সময় বেলা একটার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক টুইটে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিল্লি সফরের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর অন্যতম হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা। ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল তাদের প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ দেওয়ার কথা বলছে বারবার। এবার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম-বেশি ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে ৫০০ কোটি ডলার দিতে যাচ্ছে ভারত। এর মধ্যে নতুন মাত্রা হচ্ছে ভারতের কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলারের ঋণে সমরাস্ত্র কেনাকাটা। এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শহীদদের মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া। একাত্তরে আত্মোৎসর্গীকৃত এসব বীরের পরিবারের সাত সদস্যকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানে সম্মান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কাল শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষ বৈঠকে বসছেন। শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দেওয়া নৈশভোজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেবেন। তবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি সই নিয়ে এখনই নতুন আশা তৈরির সুযোগ নেই। তিস্তা চুক্তি সইয়ের জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ সকাল ১০টার একটু পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আকাশ প্রদীপ উড়োজাহাজে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

৩০ কেজি ইলিশ নিয়ে গেলেন হাসিনা

images

ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের হেঁশেল আজ শুক্রবার থেকেই ইলিশের গন্ধে ম ম করবে, কেননা বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রিয় ‘প্রণবদার’ জন্য দু-দশটা নয়, তি-রি-শ কেজি ইলিশ নিয়ে দিল্লি এসেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।

সাত বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই ভারত সফর শুরুই হলো চমৎকার এক চমকের মধ্য দিয়ে। ঠিক ছিল, ভারতের ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাঙালি গায়ক বাবুল সুপ্রিয় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টেকনিক্যাল এরিয়ায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন। বাবুল হাজির সময়মতোই। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে প্রটোকলের তোয়াক্কা না রেখে আচমকাই উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! ভারতের সংসদীয় অধিবেশন চলছে। নানা বিষয়ে বিরোধীরা উত্তাল। কিন্তু তাতে কী? বিশ্বস্ত প্রতিবেশী ও সবার চেয়ে বড় বন্ধু হাসিনাকে স্বাগত জানানোর তাগিদ মোদিকে টেনে আনল বিমান বন্দরে! বিস্মিত দুনিয়া দেখল দক্ষিণ এশিয়ার দুই বন্ধুর হাতে হাত সহাস্য মুখের ছবি।
দৃশ্যটা মুহূর্তের মধ্যে বুঝিয়ে দিল হাসিনার এই সফরের তাৎপর্য। আপ্লুত বাংলাদেশের মিনিস্টার প্রেস ফরিদ হোসেন বলতে ভুললেন না, ‘সকাল দেখলেই বোঝা যায় বাকি দিনটা কেমন যাবে। মোদিজির এই আসা বুঝিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর কতটা সফল হতে চলেছে।’
মন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সরকারি বাংলোয় বহুবার এসে থেকেছেন হাসিনা। প্রণব মুখার্জি বিদেশমন্ত্রী ছিলেন যখন, বছর পাঁচেক আগে সেই সময় হাসিনা নিজের হাতে রান্না করে তাঁকে খাইয়েছিলেন। বড় ভাইয়ের মতো যাঁকে দেখেন, তাঁর জন্য তিরিশ কেজি ইলিশ আনাটা এমন কিছু বড় কথা নয়। বড় কথা এটাই , সম্পর্কটা এক আধদিনের জন্য নয়। সম্পর্কটা চিরন্তন।
ইলিশ তো ‘সাধারণ’ উপহার, হাসিনা কি আর শুধু ইলিশেই আবদ্ধ থাকতে পারেন? রাষ্ট্রপতির জন্য তাই তিনি পাঞ্জাবিও এনেছেন। ধুতিও। স্ত্রী শুভ্রা যতদিন ছিলেন, প্রতিবারই তাঁর জন্য জামদানি শাড়ি এনেছেন। তাঁর প্রয়াণের পর শ্রদ্ধা জানাতে হাসিনা দিল্লি এসেছিলেন। এবার মেয়ে শর্মিষ্ঠার জন্য এনেছেন রাজশাহী সিল্কের শাড়ি। জামদানি ছেড়ে রাজশাহী সিল্ক এবারই প্রথম। আর এনেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত হরেক মিস্টি।
হাসিনার উপহারের তালিকায় মিস্টি ‘কমন’। যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘নরেন্দ্র মোদি’ নাম লেখা চামড়ার ব্যাগ ও পছন্দ মতো মানানসই পাঞ্জাবি, চুড়িদার ও ‘জওহর কোট’-এর সঙ্গে মিস্টি থাকছে। মিস্টি তুলে দেবেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হাতেও। সেই সঙ্গে সোনিয়া ও কন্যা প্রিয়াঙ্কার জন্য এনেছেন ওই রাজশাহী সিল্কের শাড়ি। রাহুলকে দেবেন পাঞ্জাবি ও চুড়িদার।

সাঈদীর রিভিউ আবেদনের পরবর্তী শুনানী ১৪ই মে ২০১৭

ss20170405230852

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনের শুনানী এক মাস পিছিয়েছে। পরবর্তী তারিখ ১৪ই মে ২০১৭

বুধবার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে কাশেমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আইনজীবীগণ সাক্ষাত করতে গেলে তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। সুপ্রীম কোর্টের মহামান্য আপীল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে আমার রিভিউ আবেদন গৃহীত হবে। আমি বেকসুর খালাস পাব। ইনশাআল্লাহ।

বুধবার বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ, সাইফুর রহমান, পারভেজ হোসেন এবং আল্লামা সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী কাশেমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আল্লামা সাঈদীর সাথে সাক্ষাত করতে যান। পরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের মামলার তালিকায় আল্লামা সাঈদীর রিভিউ আবেদনটি শুনানীর জন্য আসলে আইনজীবীগণ আইনী পরামর্শের জন্য তার সাথে সাক্ষাত করেন। আল্লামা সাঈদী রিভিউ আবেদনের জন্য আইনজীবীদেরকে আইনী প্রস্তুতি নিয়ে কোর্টে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আপীল বিভাগের ৫জন বিচারপতি আমার আপীল মামলায় তিন ধরনের রায় দিয়েছেন। একজন বিচারপতি আমাকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন। একজন বিচারপতি খালাস দিয়েছেন। তিনজন বিচারপতি যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একই মামলায় তিন ধরনের রায় নজীরবিহীন। এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে, আমি ন্যায়বিচার পাইনি। সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরে আমি রিভিউ আবেদন করেছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং আমার রিভিউ আবেদন গৃহীত হবে। আমি বেকসুর খালাস পাব এবং কুরআনের ময়দানে ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ।  আমি দেশবাসীকে সালাম জানাই এবং আমার প্রিয় দেশবাসীর নিকট দোয়া চাই।