২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
Breaking::

থাকতে চান না হাসিনা, রাখতে চান নেতারা

untitled

থাকতে না চাইলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই ‘আজীবন’ দলের সভানেত্রী হিসেবে চান আওয়ামী লীগের নেতারা। তাঁদের মতে, সরকার এবং দল চালাতে শেখ হাসিনা এখন দৃষ্টান্ত। তাঁর নেতৃত্বের বিকল্প নেই। গতকাল শনিবার এক বৈঠকে এমন কথা বলেছেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের দুজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও একজন উপদেষ্টা প্রথম আলোকে বলেন, একটি দলের প্রধান যিনি হবেন, তাঁর প্রধান যোগ্যতা হতে হবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের তাঁকে মানতে হবে। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগে এমন যোগ্যতাসম্পন্ন কেবল শেখ হাসিনাই আছেন। তাই তাঁর থাকতে চাওয়া না-চাওয়াটা এখানে বিষয় নয়। দলের জন্যই তাঁকে আবারও সভাপতি থাকতেই হবে।

তবে ওই নেতারা এ-ও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থাকতে না চাওয়ার বিষয়টির তাৎপর্য নেই তা নয়। বরং এটা স্পষ্ট যে তিনি ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প কারও হাতে দলের হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। এটা দলের জন্যও ভালো। ওই নেতাদের মত হচ্ছে, আরও অন্তত ১০ বছর শেখ হাসিনাকেই সভানেত্রী পদে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বিকল্প কাউকে ওই পদের জন্য তৈরি করা হবে।

গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী যখন সভানেত্রী পদে না থাকার কথা বলেন, তখন প্রায় সব নেতাই এর বিরোধিতা করেন। অনেকে মুখে না বললেও মাথা নেড়ে না সূচক ইঙ্গিত দেন।

জাতীয় কমিটির খুলনা জেলার সদস্য চিশতি সোহরাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকালের সভায় তিনি বলেছেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) দলে না থাকতে চাইতেই পারেন। আমাদেরও অধিকার আছে আপনাকে ধরে রাখার। আওয়ামী লীগ আপনার হাতেই নিরাপদ।’

বৈঠকে উপস্থিত একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় কমিটির যেসব সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান পদে থাকার ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যে ঘোষণাপত্র করা হচ্ছে, সেখানেও ‘নেতৃত্বের কারিশমা-আওয়ামী লীগের প্রধান সম্পদ জননেত্রী শেখ হাসিনা’ নামে একটি অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা দেশকে মর্যাদা ও সম্মানে বিশ্ব পরিমণ্ডলে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের শক্তি ও সম্পদ দুটোই।’ এরপরেই প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া সব পুরস্কারের কথা ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ সম্মেলনে শেখ হাসিনা প্রথমবার সভানেত্রী নির্বাচিত হন। এরপরের সম্মেলনগুলোতে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় টানা ৩৫ বছর দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

কেবল গতকালের জাতীয় কমিটির সভায় নয়, ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী সভানেত্রী না থাকার ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি বলেন, নতুন কেউ দলের দায়িত্ব নিলে তিনি খুশি হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দলীয় পদে থাকা না-থাকা নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের সঙ্গে। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে বিশ্বাসযোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা বর্তমানে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই। তাঁর বিকল্প কাউকে আওয়ামী লীগের কেউ এখনো ভাবেনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী চিন্তা আছে, সে ক্ষেত্রে ওই পদে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারীর বাইরে যাওয়া উচিত হবে না।’