২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
Breaking::

বাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা তুলে নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

bangladesh-bank-logo_0

গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে তুলে নিয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ৭ দিন থেকে ৩০ দিন মেয়াদে এ অর্থ তুলে নিতে প্রতি ১০০ টাকার জন্য ব্যয় করতে হয়েছে ৩ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে এ ব্যয়বহুল মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুদ্রানীতির কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বাজারে টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেয়া হয়। আবার বাজারে টাকার সঙ্কট দেখা দিলে রেপোর মাধ্যমে ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় বাজারে টাকা ছাড়া হয়।

জানা গেছে, বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছে তা কাজে লাগাতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এতে প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই বিনিয়োগযোগ্য উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার বেঁধে দেয়া সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিনশেষে ধরে রাখতে পারবে না। সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকলে দিনশেষে হয় তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হবে, নতুবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হবে। অন্যথায় সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরিমানা গুনতে হয়।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে ব্যাংকগুলো যে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাসী বাংলাদেশী ও রফতানিকারকদের কাছ থেকে নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছে তা বিক্রি করতে পারছে না। আবার আন্তঃব্যাংকও মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা না থাকায় জরিমানা এড়াতে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দ্বারস্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতি সপ্তাহেই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে যে ডলার কিনছে তার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় মুদ্রা দিচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে টাকা ছাড়ায় বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে।