২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
Breaking::

পাকিস্তানকে একঘরে করার বিনিময়ে তিস্তা চুক্তি চায় ঢাকা

পাকিস্তানকে একঘরে করার কূটনৈতিক লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বিনিময়ে দ্রুত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি চাইছে ঢাকা।

আগামী মাসে বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের গোয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ১৬ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তিনি। এতে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করবেন শেখ হাসিনা।

শুক্রবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন এ কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনেন বলা হয়ছে, দিল্লির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানের সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

এরপর বুধবার গভীর রাতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ঢুকে ভারত যে হামলা চালিয়েছে তাও সমর্থন করেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘আক্রান্ত হওয়ার পর প্রত্যাঘাতের অধিকার সকলের রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত কোনও অন্যায় করেনি।’

সার্ক সম্মেলন বর্জনের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টা এমন নয় যে দিল্লির চাপে সার্ক বয়কটের ঘোষণা করেছে ঢাকা। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে ভূমিকা নিয়েছে, তার পরে শেখ হাসিনা ইসলামাবাদে গেলে দেশের মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর, সার্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এক রকম হয়েই ছিল। কিন্তু সার্ক ভেস্তে যাওয়ার দায় কাঁধে চেপে যেতে পারে বিবেচনা করে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এর পরে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী যখনই জানান, নরেন্দ্র মোদী ইসলামাবাদ যাচ্ছেন না, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সার্ক সদর দফতরে সম্মেলন বয়কটের কথা জানিয়ে দেয়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের জঙ্গিদেরও সরাসরি মদত দেয় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংগঠন আইএসআই।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় দূতাবাসে বসে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এ বিষয়ে বার বার ইসলামাবাদকে তথ্য-প্রমাণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সেটা চলেছে।’

তিনি বলেনন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ তাই ভারতের পাশেই রয়েছে।

ঢাকার এক শীর্ষ কূটনীতিকের বরাতে আনন্দবাজার জানায়, যে কোনও সম্পর্কই বিকশিত হয় দেয়া নেয়ার ভিত্তিতে। বাংলাদেশও তাই দিল্লির পাশে দাঁড়ানোর বিনিময়ে দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.